তীব্র ভাড়াটিয়া সংকটে খুলনার বাড়িওয়ালারা

Khulna

খুলনা: ইতোমধ্যে নতুন বছরের দুই মাস পেরোতে চলেছে। কিন্তু তারপরও ভাড়াটিয়া সংকট না কাটায় বাড়িওয়ালারা পড়েছেন বিপাকে।
বাড়তি আয়ের পথ বন্ধ থাকার ফলে ভাড়াটিয়াদের অনেকেই গ্রামে চলে গিয়েছিলেন করোনা মহামারীর শুরুর দিকে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকায় বাড়িওয়ালাদের অনেকেই তাদের কাঙ্খিত ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না।
নগরীর খান জাহান আলী রোড থেকে শুরু করে কেডিএ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত “টু-লেট” লেখা অনেক সাইনবোর্ড বর্তমানে দৃশ্যমান। এছাড়া উল্লেখযোগ্য অভিজাত এলাকা সোনাডাঙা ও নিরালার অলিতে গলিতে “বাড়ি ভাড়া”র পোস্টার বিদ্যমান।
প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুুতি নিতে খুলনার অধিনস্ত মফস্বল শহর ও গ্রাম থেকে অনেক শিক্ষার্থী খুলনা নগরীতে আসে। তারা মূলত শহরের হাজী মহসীন রোড, বাবুখান রোড ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে রুম ভাড়া অথবা মেস ভাড়া নিয়ে থাকে। কিন্তু এ বছরে এখন যথেষ্ট পরিমাণে শিক্ষার্থী শহরমূখী হয় নি। নগরীর জনপ্রিয় বঙ্গকলি হোস্টেলের ব্যানার ফেস্টুন রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে, যা কিনা বর্তমান অবস্থাকে আরও প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
খুলনার গল্লামারী থেকে শুরু করে সাচিবুনিয়ার অনেক নবনির্মিত বাড়ি ভাড়াটিয়ার অভাবে খালি পড়ে আছে।
তবে খুলনাতে বিদ্যমান অনেক ভাড়াটিয়ার কাছে এই পরিস্থিতি আশির্বাদরূপে প্রতীয়মান। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর অহেতুক তাদের বাড়তি ভাড়ার শিকার হতে হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্কুল-কলেজ সম্পূর্ণ রূপে না খোলা পর্যন্ত অধিকাংশ বাড়িওয়ালারা এমন বিপাক থেকে মুক্তি পাবে না। এমনকি শহরের অনেক প্রসিদ্ধ স্থানের দোকান-রেস্তোরাও বন্ধ হয়ে আছে।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এই সমস্যাকে আরও বেগবান করেছে। খুলনাতে এমন হাজার হাজার বাড়িওয়ালা আছেন যারা সংসারের নিত্যদিনের খরচ বহন করেন তাদের বাড়ি ভাড়ার টাকায়। এক এ তো ভাড়াটিয়া নেই, তাদের আয় বন্ধ। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিলসহ অন্যান্য মেইনটেনান্স সম্পর্কিত খরচে তারা বিপর্যস্ত।